Runa Khan Instagram – এটা ছিলো তাঁর সাথে আমার শেষ দেখা..
২০০৯ এর জুলাই বা অগাস্ট ..
দীপন দা’র ’মায়ের দোয়া পরিবহণ’ এর সেটে ধামরাই..
তখন রাজেশ্বরী পেটে.. ১-২ মাস সবে..
চলমান কাজগুলো শেষ করে মাতৃত্ব কালীন ছুটিতে চলে যাই..
রাজেশ্বরী’ জন্মের পর আমার ছোট-বড় তাবত সহকর্মীদের মধ্যে প্রথম এবং একমাত্র জন যিনি আমাকে প্রথম নিজে থেকে ফোন করেন..
স্পষ্ট শুনতে পাই আমি এখনো ফরিদী ভাইয়ের ফোনের ওপাশের গলার আওয়াজ – “রুনা.. তোমার সন্তান হয়েছে..
অভিনন্দন..
সন্তানকে নিয়ে ভালো থেকো..”
তিনি যেদিন চলে যান, সেদিন আমার হোতাপাড়া শুটিং ছিলো, সাত-সওদাগর নাটকের..
শুটিং এ না গিয়ে, আমি ধানমন্ডি যাই..
তাঁর খাটের পাশে, ঘরে,বসার-খাবার ঘরে,নীচে গ্যারেজে সারাদিন দাঁড়িয়ে ছিলাম..
কিন্তু একবারের জন্যও তাঁর মুখ দেখিনি,হাত স্পর্শ করিনি..
জীবনে প্রথমবার তাঁর মুখ দেখেছিলাম,তাঁর হাত ধরেছিলাম নিকুঞ্জের কাশবনে..২০০৪ এ..
শমী আপার পরিচালনায় একটি টেলিছবি ছিলো..
ছোট্ট একটা চরিত্রে কাজ করেছিলাম, শমী আপার বান্ধবী..
কাশবনে শিল্পী ছিলেন দিলারা আন্টি,ফরিদী ভাই,শমী আপা আর আমি..
প্রথম টেলিছবি ওটা আমার, ক্যামেরার আংগেল বুঝি না.. বারবার ক্যামেরার দিকে পেছন দিয়ে দাঁড়াই..
তিনি আমার হাত ধরে টেনে ঠিক জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিলেন..”এই মেয়ে এখানে দাঁড়াও,এদিকে তাকিয়ে কথা বলো..ক্যামেরাকে ভয় পাওয়ার কিছু নাই.. ক্যামেরা তোমার বন্ধু !”
সেই থেকে অভিনয় জগতে ক্যামেরাই আমার একমাত্র বন্ধু!
সেখান থেকে ২০০৮ এ তাঁর পরিচালনায় হূমায়ুন আহমেদ এর ছায়াবিথী উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘নায়লা’ তে নির্বাচন..
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিলো রুনা জনপ্রিয় নয় তারপরও কেনো সেসময়কার জনপ্রিয়দেরকে না নিয়ে রুনাকে ‘নায়লা’ চরিত্রে নিলেন..?
তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন “রুনা জনপ্রিয় নয়, তবে ও আমার চোখে এই সময়ের সবচেয়ে ফাইনেস্ট অভিনেত্রীদের একজন..
সেজন্য সে আমার কাছে ‘নায়লা’ ! “
আমি তাকে প্রথম দেখার কাশবনের ভরাট গলার আওয়াজ আর লাল-উষ্ণ হাতের প্রথম স্পর্শটা সারাজীবন মনে-মাথায় রাখতে চাই বলে, শেষ দিন পুরো সময়টা উপস্থিত থেকেও, তাকে আর দেখিনি.. স্পর্শ করিনি..!
আপনি আমার কাছে এখনো জীবন্ত ফরিদী ভাই..
শুভ জন্মদিন..
ভালোবাসা ❤️
#runakhan | Posted on 29/May/2024 12:03:35



